পদধ্বনি

সুবোধ বচ্ছ

গ্রন্থাগান্র

কলিকাত]

প্রথম শংস্করণ, বৈশাখ, ১৩৫২ খিতীয় সংস্করণ, ফান্তনঃ ১৩৫৪

প্রিন্টগ্রাফট লিঃ; ৬৩; ধন্্তলা স্ট্রীট, কলিকাতা হইতে শ্রীগৌরীশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত পি ৫৮ ল্যান্সডাউন রোড এক্সটেনশন,

কলিকাতা হইতে গ্রন্থকারের পক্ষে শ্রীশৈলেন্ত্রন্দ্র বন্ধ কর্তৃক প্রকাশিত

আঅমলা দেবী শ্রীভবতোষ দশ

প্রীতিভাজনেধু-_

21 বসু মন্যান্য বরই

উপন্যাজ পাখির বাসা ব্রাজধানী পদ্মা-_প্রমতা নদ মানবের শক্র নারী সহচরী নব মেঘদুৃত দ্্ণা নটী বন্দিনী স্ীবুদ্ধ

2াল-জাত্গ্রহ জয়যাত্র! বিগত বসস্ত

নাটক অতিথি কলেবর তৃতীয় পক্ষ বুদ্দিধহ্য

এক

»ম্পাঁদকীর্টা শেন করির। প্রকাশ কপিট! বেরাপার হাতে সম্পাদকের ঘরে পাঠাইর়া, দিল। আজ দুপুরে অফিসে আিবার সময় হইতেই মন পালাই-পালাইট করিতেছে সমস্ত শহরট। এমন ক্ষেপিরা গিয়াছে, আর সে-ই ডেস্কের সমুখে বসিয়া ্চিশিল্যাল ডেইলি'র জন্য স্ুপ্থির বিচার-পুর্ণ রাজটনতিক নিধন্ধ লিখিবে, ইহা তাহার কাছে কেবলই অসঙ্গত মনে হইত লাগিল

এমন একট। শহরে এমন বিশৃঙ্খলার উদ্ভব একট! ইতিহাসিক ঘটনার পথ্যারে পড়ে মানু, শোড়াঃ মেটর-গাড়ি, উ্রামবাস। দোকনি-পনার, হ.ওডার পুল। রেলের ইন্চিশান, গ্রাণড ট্রাঙ্ক শড়ক, সবাই পাগল হইন্ন। গিরাছে। রেলের ইস্টিশান যে এই বিরাট নগরীর অদ্ধেক বাসিন্দার একমাত্র লক্ষ্যস্থল হই! উঠিতে পরে, তাহা না দেখিলে বিশ্বাস হইত না। প্র/ইভেট মোটর, ট্য।গি, বাস মোটর-লরি, থোডাঁর গাড়ি, রিমা মার গোরুর গাড়িতে পর্যন্ত কাতারে কাতারে লোক ইন্টিশ!নের বুকিৎ অফিসের সম্বথে ধন দিতে আপসির।ছে। ট্যালি গাড়ি-অলাদেরুতমন্ত পড়িরাছে ; কুলি, টিকিট-বাবু রেল প্র্যাটফন্ম্ের ঠা ুি ভারি হইয়া উঠিতিছে। ভগ়-ত্রস্ত নরনারী অর্থের মারা করিতেছে না; অন্তুবিধার তোরাক্কা করিতেছে না? যে যাহার মুল্যবান সম্পত্তিগ্লি জোগাড় করি! অভিশন্ত নগরী হইতে ছুটির! পাল!ইবার-ভগ্য বাগ্ হইয়া উঠিরাছে। মানুষে, মালে, শিশুর চিৎকার এবং জনত।র কোলা-

জনতার শেষ নাই; জলম্মোতের মতে

প্দরধধবনি

নানাপ্রকার যান-বাহনে চডিরাঃ অ।বশ্তক এবং অনাবশ্যক পৌটলা-পুটুলি [কড়াই ভীত, উদ্দিগ্ন পাংস্ু-মুখে রেলের গাড়ির একট। বত অপরিসর কোণই হউক সংগ্রহ করিবার জগ্ত মিরার মতো ছুটির আসিতেছে ভঙ্গতা ন!ই, সৌজন্তবোধ ন।ই, অন্টের শ্টাধ্য অপিকারকে সম্মান দেখাই- বার প্রবৃত্তি ভবে চাপ] পড়ি! গিরাছে। বুক্ধকে ঠেণিদা বুবা, নারীকে ঠেলিয়৷ পুরুব, ছুন্মলকে ঠেলিরা শক্তিমান আস্মরক্গ/র রি লালারিত হইয়াছে কাহারও ছেলে হার/ইতেছে, কাহারও মেবে' হারাইতেছে। কেহ ভিড়ের চ।পে মুচ্ছা! গেল, কেহ অশগ্কারের বাক্স ভারাইল; বিনিদ্, শীতার্ত, অভ্রক্ত অবস্থ, কত লোক থে মরিবার উপরূম হইল, ত'হা! আর বলিবাব নয় তবু এই অভিশপ্ত নগর্রীকে এই নুহত্তে পরিত্যাগ করিয়া পালাইতে হইবে এই নগরী কত জাবিক!র সংস্থান করিয়াছে, কত মায়াস বিতরণ করিয়াছে, কত প্রমো পরিবেশন করিয়াছে, উত্মৰ-

সভার কত দীপ জালিরাছে, আজ তার ছুঃসনয়ে কাহারও আর তাহ মনে রহিল না; ব্যাধিগ্রস্তা নটার মতোই সকলে তাহাকে পরিত্যাগ করিত! চলিল।

০৫

এই বিশুঙ্খল। স্ুপ্রকাশের মনকে টানিরাছে। যাহা স্থির, বাহ। স্বাভাবিক এবং সঙ্গত বলিঘ্না এতদিন সম্মান এবং আনুগত্য পাইয়] আসিরাছে, একটা সামান্য টোকার তাহা কেমন করিয়৷ সাড়ে-বত্রিশ ভাজার মতো! ওলোট প!লোট হইয়! যাইতে পারে তাহা ভরের পরিধির বাহিরে থাকিতে পারিলে উপভোগ করিবার মতো! বস্ত। স্ুপ্রকাশ সমস্তই উপভোগ করিতেছে, একান্তই উপভোগ করিতেছে কত ভম্ুর এসব! এমনই সহজে সকল রাজনৈতিক এবং সামাজিক ব্যবস্থা, অর্থের গর্ব, কীন্তির গর্ব, সম্পত্তির স্বাচ্ছন্দ্য এক টোকার় ধূলার মিশাইয়া যাইতে পারে !. নতুন্‌, সভ্যতা, নতুন মূল্য-বিচার, নতুন, গায়ে আদর্শ, এমনই অবশ উদয় হওয়া কিছুই অসম্ভব নয়

পদধ্বনি

একটা অনাগত বিপ্রবের ছবি ঝারবার স্প্রকাশের মনশ্চক্ষে ভাসিয়! উঠিল। | মাটিতে প| দুইট! দির] ঠেলিগ! সশবে চেয়ার সরাইয়! সে উঠির। পড়িল স্প্রক।শ আটাশ-উনত্রিশ বছরের যুবক বেশি মোটা নর, বেশি রোগা নয়; লঙ্বায় ছ'ুটের কাছ!কাছি। উজ্জল শ্রম গায়ের রং নাকট। চু চোখ ছুটি স্তিমিত পাঁকিলে একটু ভাবালুতার আমেঙ্গ লক্ষ্য করা যাঁর কিন্তু সঙ্গাগ থাকিলে তাহাতে বুদ্ধি এবং সম[লোঁচনার দাপ্টি স্ুষ্পষ্ট কুটির ওঠে। তার মুখমগ্ুলে অকুপণ হাসি অতি সহজে আতারাত করে, কিন্ধ ঠোট ছুটিতে দৃঢ়তার চিহ্ন একটু লক্ষ্য করিলেই নজরে পড়িবে

গত ঢুই বৎসর ধরির1, অর্থাৎ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রায় শুরু হইতেই

সে গ্যিশগ্াল ডেইলি'তে আ্য।সিস্ট্যান্ট এডিটরি করিতেছে এম্‌-এ পাশ করিবার পর জীবিকা-অঞ্জনের তাগিদট| যখন প্রত্যক্ষ হইয়| ওঠে, তখন জীবিক! বাছিবার সমস্তাটা1! তাহার জীবিকা-অনেষণের সমন্তার চাইতে কম গুরুতর হইয়া ওঠে নাই। প্রচলিত পথে বড় চাকুত্রি জোণাড়ের চেষ্টা করিয়াছে, একবার কম্পিটিটিভ পরীক্ষাতেও বসিয়াছিল, স্টেটস্য্যানের কন্মখালির কলাম ঘাটিরা নিষ্ধাম কন্ম হিসাবে বহু আবেদন ছাঁড়িরাছে, কিন্তু কোনও পরিণতিতে পৌছায় নাই। এমন. সমর বাধিল তার বাপের সঙ্গে মতান্তর; ক্রমে তাহ! মনাস্তরে

দাড়াইল। |

মাত্র আগের বছর তারমা মারা গির়াছিলেন? বাড়িতে গৃহিণী- [স্থানীয় কেহ নাই। নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত উকিল অস্বিকাবাবু উহাট কে বড় ছেলের জবিলম্বে বিবাহ কন্িুর'+মূতা জরুরি বিবেচনা করিলেন পাত্রীর খোজ চলিল। অবশেষে একদিন তিনি স্ুপ্রকাশকে

পদধ্বনি

নইলেন, তাহার বিবাহ তিনি স্থির করিরাছেন, একটা শুভ্দিনও ধার্ধ্য হইরা গিরাছে। সুপ্রকাঁশের নব-জাগ্রত বাক্তিত্ব-বোধের কাঁছে এই আজ্ঞা একই রূঃ অ'ঘালতর মতো আসিরা উপস্থিত হইল জীবনের এত বড় এবং এত অন্তরঙ্গ ব্যাপারে অন্যের এমন সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপ অনধিকার চচ্চার মতে! মনে হইল মতাস্তর মনান্তরে দাড়াইল। মুল্যবান চাকরি সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করা অর চলিল না; স্বাবলম্বী হওয়; অচিরেই অত্যাবস্ ভইর! উঠিল অন্ন বেতনে ফেঁটা সবচেরে সন্ত্রস্ত কাজ তহাই সে খাছির' লইল। কলেজ-জীবনেই তার কলমের জোর পট হইগ1 উঠিগ্নাছিল। তাহারই কল্যানে হ্যাশন্যংল ডেইলি'-র সম্পাদনা-মগুল তাহ!র সগর্দ প্রবেশাধিকার

হারিসন রোড ধরিরা স্প্রকাশ হাওড-পুলের দিকে আগ।ইয়া চলিল। জানুয়ারী মাস, বেশ কনকনে হাওয়া দিতেছে পশমী পঞ্জাবিটার গলার বোতামটাও সে আটকাইরা দিল; একটুতেই আবার তার শর্দি লাগে। শীতের সন্ধা পুরু হইরা গিরাছে। এখনও ব্ল্যাক-আউটের গযাস জলে নাই কর্পোরেশনের আলো যাহারা জালার, তাহাদের মো অনেকে ইতিমধ্যেই শহর ত্যাগ করিয়াছে, কেহ কেহ পলারনের উপান খুজিতেছে; তবু কর্পোরেশন পৌর কর্তব্যগ্তলি ষথাসাধ্য চালাইরা লইবার ব্যবস্থা করিতেছেন এই শহরব্যাপী বিশৃখখলার মধ্যে একটি কর্তব্যের শুধু বিরাম নাই-_পলায়নপর জনতার শোভাধাত্রী অন্তহীন প্রবাহে চলিয়াছে। এই ক্রমান্ধকার পথে সুপ্রকাশের কাছে তাহা৷ প্রেষ্ঠর ,€শাভা যাত্রার মতো মনে হইল।

১৯৪২ সালের জাঙ্্রারী মাস। - বন্দীর জাপানীরা হান! দিয়া »

পদর্ধবনি বিমান-আক্রমণে রেঙ্ুনের বহু সহস্র লোক হতাহত হইয়াছে দলে দুল ভারতবাসী জাহাজে ব। পদব্রজে দেশে পালাইয়া আসিতেছে। ভাঁপানী সৈশম্তদলের এক বাহু মলয়, সিঙ্গাপুর, জাভা প্রস্তুতি জয়

করিতেছে; অন্ত বাহু ট্যানাসেরিম অঞ্চলের মধ্য দির] নমায প্রবেশ করিরাছে। এই বুদ্ধের ধাক্কাট| কিন্ত সবচেরে, প্রবল হইর।' আসিল কলিকাতায় বহুকাল যুদ্ধ-দর্শনে অনভ্যন্ত জনের! আতঙ্ক গণিল ; প্রমোদমর়ী নগরীর উপরে আতঙ্কের ছায়া মৃত্যুষ্ারার মতো! গা হইর| উঠিল। আশঙ্কা-উদ্বেগের আর অন্ত রহিল ন|।

মাডোরারিদের বড় বড় আড়ত দোকান গুলির কোনটাই মে খোল।: আছে, হ্ুপ্রকাশের এমন মনে হইল ন!। গজব শুনিয়াছে, বহু মাড়োরারি ব্যবসাগী নাকি জলের দমে মাল বিক্রয় করিয়! অভিশপ্ু নগরীর আওতা ছাড়ির| পাল।ইঘাছে ; নিজেদের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি সোনার তালে পরিবর্তিত করিয়া কফেলিরাছে, পুলিশ এমনও কয়েক জনকে আবিষ্কার করিরাছে বলিয়া খবরের কাঁগছে অংবাদ বাহির হইয়াছে বড়বাজার আর বড়ো বাজার নাই? রুদ্ধদ্বার বিপণিপ্ুণি কালো কালে! বিরাট প্রেতের মতো! হিসুক আনন্দে মুত্রাভীত জনতার বক্গ-কম্পন উপভোগ করিতেছে ! '

শুন্চো, ট্যান্সিওরাল।, হাওড়া স্টেশন যাবে ?

“কে নেই রাস্ত/র ধারে ট্যাক্সির পিছনের সীটে গা এলাইয় জবরজঙ্গ গালপাট্ট্ওয়ালা শিখ ট্যান্সিচালক সমুখের আসনের প্রি [জোড়া উঠাইরা দির জগতের সমুদ্র" কিছুর প্রতি অনহেলা-ভরে

পাত! নাচাইতেছিল, শুইরা শুইরাই নিপিপ্তকঞ্ঠে শ্নের

দিল। | ঘড় বিপদে পড়েছি” স্থপ্রকাশ ঠোঁটের কোণায় দুষ্ট হাট! পিয়া কহিল। “্বী অসুস্থ, তিনটে ছোট ছোট ছেলেপিলে, এদের

পদধ্বনি

নিয়ে আজই পালাতে হবে। অথচ কোথাও একটা গাড়ি খজে পাচ্ছি না?

ট্যাজিঅলা নিঃশব্দে তিনচার সেকেগু পা নাঁচাইল। অতঃপর নিরাসন্ত্রভাবে প্রশ্ন কিল, কীহাসে যাও গে?

“এই তো, চিৎপুরের মোডে; কাছেই।

“পন্দর রূপায়া

পনেরো টাকা! বলো কি? এক মাইলের যে পদ নয়? মিগারে আট আনার বেশি উঠবে না।”

“যো মিটার মেযারগা উস্কে টুড়া বলির] ট্যাক্সিমলা আবার প| নাচাইতে আরন্ত করিল।

দছেলেপিলে নিয়ে বড়ই বিপদে পড়েছি; দেশের লোকের বিপদে দেশের লোক সাহায্য না করলে-*** স্থপ্রকাশ আবার শুরু করিল

“ত,রা হামারা ভি কুছ কমতি নেহি |

তোমারও এখানে ছেলেপিলে আছে নাকি? অস্থস্থ স্ত্রীও আছে আমার মতে?

“নেহি তো কেরা? হামারা জান্কো কিন্মৎ কুছ কমতি হার ?

দশটাকা নাও

“ভর়সা-গাঁড়ি বহুৎ মিলেগি 1 বলিয়1 ট্যাক্সিঅলা পুনর্ববার পদ-নৃত্য শুরু করিল।

স্থপ্রকাঁশ আর কিছু না বলিয়া মনে মনে খুব খানিকট। হাসিরা লইরা হাওড়ার পুলের দিকে অগ্রসর হইল। |

“কমলা লেবুর জোড়া কত করে ? “মঠ আনে ।, ' পেশোয়ারি ফলওয়ালা ফলের মতোই রসে টস্টস্‌ করিতেছে

পদ্ধবনি

স্থপ্রকাশকে সে মোটেই সাংবাদিক বলির! জানিল না; জানিলেও সম্মান করিত না। তাহার লাভের মস্ডম আসিরাছে; পলারনপর জনতা ভবিষ্যতের রস্দ-সংগ্রহের প্রয়োজনে তাহার দোকানে সারাক্ষণই ভিড় করিতেছে, দ্রবোর মুল্য বিচ!র করিতেছে না, জিনিষ পাইতেছে, ইহাই যথেষ্ট মনে করিতেছে

“ভাই, চার আন! দিচ্ছি। ইস্টিশানে আমার ছেলেটা কাঁদছে, তাই কমলালেবুর খোজে এতদূর আসতে হলো ।,

“আগে বাঠো' বাবুজি। চার আনামে সান্তা নেহি মিলতা

স্থপ্রকাশ তবু দমিল না। কহিল, “এর জোড়া কি ছু আনার“বশি হওয়| উচিত? ছুঃসমর বলেই না চার আনা দিচ্ছি।'

পেশোয়ারি ফলওয়ালা ইহার জব।ব দেওয়াও অসম্মানজনক মনে করিল। ঠোঁট ছুটি টুচলে! করিয়া! সে অবজ্ঞাভরে “বনকে চিড়িয়া” শুরু করিরা দিল। অবশ্য, চল্‌, চলরে নওজোয়ান” বা “পির! মিলনকে! জানা বা শিচো নাচো প্যারারে, মনকে মোর এব« আরও অনেক কিছুই হার জান|, তবু “বনকে চিডিরাই, তাহার মনোহরণ করিযাছে।

বনের পাখির সঙ্কানরত কলওয়ালাকে ছাড়িয়া সুপ্রকাশ হাওড়া পুলের জনন্মোতের মধ্যে আসিয়া মিশিল। ভাবিতে লাগিল, পণ্টন পুল কত শক্তি ধরে? কোনও ওজনই কি ইহাকে পরাজিত করিতে পারে না? নইলে আজও সে নদীর উপরে ভাঁসিরা আছে কি করিয়া? ও-পারে পৌঁছিয়া ঘড়ি মিলাইয়া স্ুপ্রকাশ দেখিল, কুড়ি মিনিট লাগিয়াছে।. ধু মিনিটের পথ কুণ্ড মিনিটে পৌছির়াও তার বিম্ময় হইল।

“আত মোশায়, বিছনে চোকে দেখতে পান না? দিলেন তো স্থজনিটাতে রাস্তার ময়লা লাগিয়ে -"'

| পদরধবনি

“আজে, আমি বড়ই লজ্জিত, অপ্রতিভ হইরা স্থপ্রকাশ কহিল, “আমি এ-জারগাটাকেও রাস্থাই মনে করেছিলাম ! বুঝতে পান এখানে বিছান] পাত] রয়েচে-

“মার রাস্তা 1” কেরানীশ্রেণার সেই প্রৌঢ় ভঞঙ্ুলোকাট কহিলেন, “এ যে তীর্ঘে এসেছি মোশায় পদ-রজ গায়ে মেখে গড়াগড়ি যাচ্ছি; অগচ ছুর্দিক্রে চেষ্টাও টিকিট ঘরের কাছাকাছি ছেবতে পারল।ম ন"*

বাড়ি ছেল্ডে এসব ছেলেপিলেদেখ নিয়ে ছুদিন ধরে এখনে বসে জাছেন 1” আবন্ময়ে সপ্রকাশ কহিল।

“এ ছাড়া আর বাঁচবার উপ|ঘ কি, মোশার £ ভদ্রলোক অভিযোগের জুরে কহিলেন ব্যিটা! গো-খাদ্ক অর ফডিও-খাদকের সঙ্গ, আর এদিকে আমাদের উলুখড্ডের প্রাণ যায়। দেখুন তো মোশার কাণ্ড! আমাদের কোলকাতা শহরটাকেই ধুলিসা২ করবার জোগাড় করেছে 1 এবার প্রাণ নিয়ে সরে পড়তে পারলে বাচি ।**বলেচে তো! রেলের বাবু, আজই টিকিট জোগাড় করে, ছেবে-''দ্টাকা! কব লেছি, রাজি হচ্ছে ন|.""ষোল টাক] চাচ্ছে মাঝামাঝি একট! রফা করতে হবে 1--প্রণই যদি না বাচে, টাকা দিরে অর কি হচ্ছে”

“কোপার যাবেন ? সুপ্রকাশ প্রশ্ন করিল

'জানিনে, মোশার! কোথায় যাব, কিচ্ছু জানিনে। শুধু জানি, পালিয়ে যেতে হবে তাই তো ভদ্দরলোৌককে বলেছি, যেখানে সেক, বদ্দ,র হোক, শুধু টিকিট ক'টা জোগাড় করে দিন ।+

টিকিটহীন যাত্রা! নিবারণের জন্য গ্লাযাটফল্ম-টিকেট বিক্রয় বন্ধ করি দেওর] হইয়াছে টিকিট-ঘরের পঞ্চাশ গজের মধ্যে অগ্রসর হওয়া

পদর্ধবণি

অসপ্ভব। প্র্যাউফম্মের ফটকের কাহাকাছি অগ্রসর হইতে হই প্রতি পদক্ষেপে লোকের বা লোকের মম্পন্ভির সঙ্গে সঘাত অবগ্তন্থাবী | তবু প্রকীশের ভিতরকার সা-বাদিক তাহাকে টানিরা লইরা চলিল।

প্লাটিক্বের প্রবেশ-মুখে সে এক মহামারী ব্যাপার যেন সমুদ্রের জল একদিন ক্ষেপিয়া গিরা একটা খালের মধ্যে প্রবেশ করিবার জনন তোলপাড় আরম্ভ করিরাছে। শিশু নারী, বন্ধ, যুব এবং তাভাদের মালবাহী কুলির| সকলেই যেন স্থান কাল পাত্র উপেক্ষা করিয়া নির/পত্তার বাহন রেলের গাটির সান্গিধো আগাইর। য|ইবার বস্নার বা!কুল হই পড়িয়াছে।

“কোন ক্লাসের টিকেট ?

“কোন্‌ ক্লাস !'

'আপার ক্লাস ছাড়া কারুর ভেতরে ঢোক্বার হুকুম নে সরে দাড়ান | রেলের দ্বারপাঁল কন্মচারিদের একজন একটু রূপরেই

কিল।

সো

অন্তদের উপায়? স্বপ্রকাশ উংকগার সঙ্গেই জিজ্ঞাসা করিল। 'জানিনে অত বক্বার সময় নেই |! মাথার পর্বত-প্রমাণ মাল লইপন! একট; কুলি কিছুক্ষণ হইতেই ্থপ্রকাশকে পিছন হইতে ঠেলিতেছিল। পুরোগমীর অজ্ঞত! আনাড়িত্ব দেখিরা সে ভতাশ হই! উঠ্িতেছিল। উপদেশ দিরা কহিল। 'পাকিট্‌ মে দে! রূপার। ডাল্‌ দিজিরে বাবুজি, ফটক জরুর খুলে গা রাস্ত। বন্দ করকে খাড়া নাহি হোনা-..আপ নেহি দেঙ্গে তো! ছুল্রি দেনেকো তৈয়ার র...ঃ “আমি ন্যাশনাল ডেইলি থেকে ভিড়ের অবস্থা! রিপোর্ট করতে এসেছি।” ফটকের সমুখের অপেক্ষাকৃত সন্াস্ত পোশাকের কম্মচারিটিকে প্রকাশ অবশৈষে গন্ভীরভাবে জানাইল।

১০ পদধবনি

৪: আপনি স্তাশন্তাল ডেইলির প্রতিনিধি? আহ্ন, ভেতরে আনুনঃ আমন দেখে যান, যাতিদের সুবিধার জন্ত আমরা কি রকম সব ব্যবস্থা করেছি। অসম্ভব ভিড় মশার। এর সঙ্গে কোপ, করা কি চাটিখানি কথা; মেহন্ততৈর একশেব হচ্ছি ।---আস্মুন, আমার সঙ্গে আনুন। আমি একজন প্যাসেঞ্জার সুপারিন্টেগ্ডেপ্ট 3 বাত্রিদের সুখ-স্থাচ্ন্দ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখাই আমার কাঁজ।..রেল কর্তৃপক্ষ ভিরোগিক একট করচে। দেখছেন তে! কাণ্ড! সব লোক একস্ছ্ে ক্ষেপে গেলে আমর! কি করি? এই পাগলামির তাল সামলাতে আমরাও সার] হবার জোগাড় হরেচি | খেটে খেটে হাড়ের ভিতরে পর্যাস্ত ব্যথ' " হয়ে গেছে ।*স্টেশন-মাস্টারের সঙ্গে একবার দেখা না করে যাবেন না যাত্রিদের জন্ত আমর! কি কি ব্যবস্থা করেছি, সব তিনি বুঝিরে দেবেন টিকিট-ঘরের সবগুলি কাউণ্টার খুলে দেওয়া! হয়েছে ; ঝাড়দার মেথর সর্ব ঝাটপাট দিয়ে বেড়াচ্ছে, ফিলটারের জলের যাতে অন্ভাব ন] হয়, সেদিকে কড়া নজর আছে; ভেজাল নণ-চালারু সেজন্য ফেরিঅলাদের খাবারের উপর দৃষ্টি রাখা ভয়েচে। আর চোর-বটুপারের হাতে যাতে যাত্রীর ধন-সম্পত্তি মার! না যায়, তার জন্য কি রকম পুলিশের বন্দোবস্ত: করা হয়েছে, তা আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেচেন-**

“আজ্ঞে হ্যা, গেটের সামনেই তো! ছু' ছুটো পুলিশকে দীড়িরে থাকতে দেখেচি 1 স্ুপ্রকাশ হাসিটা গিলির! ফেলিরা গম্ভীর মুখেই কহিল। ুরি-জোচ্চরির কোনও উপাই রাখেন নি আপনারা |,

ধন্যবাদ সবাই এটা আ্যশ্রিশিয়েট করে না? প্যাসেঞ্জার সথপারিপ্টেপ্ডে্ট কহিল। “দেবেন আপনার কাগজে ছুকথা লিখে, তবে, যদি বিশ্বেস হয়। আমার নাম দেবেন চাটুষ্যে।

“মনে থাকবে” বলিয়া স্প্রকাশ ট্রেনের দিকে আগাইয়া চলিল।

' প্দর্ধবনি ১১

বস্কতঃ ঘটন! রিপোর্ট কর! স্থ প্রকাশের কাজ নহে খবরের কাগজের গাম করিয়া সে প্ল্যাটফর্খের ভিতরে প্রবেশ করিতে পারিরাছে, এই যথেষ্ট খবরের কাগজের অফিসের চাকরিটা সহসা তার কাছে মূলাবান মনে হইতে লাগিল

শ্ভ " সস

রক

স্টেশন হইতে বাহির হইয়! স্থুপ্রকাশ ধন একটা দশ নগ্ধরের বাস্‌-এ 'চাপিরা বসিল. তখন বাহিরের বড খড়িটাতে প্রার আটটা বাজে সে অফিসে পৌছিবার পুর্বেই স্জ[তা-দির কাছ হইতে এক টেলিফোন আসিরাছিল; একবার নিউপার্ক স্ট্রীটুটা ঘুরিয়া আগিতে হইবে। এয়োজন হয়তো এমন কিছু গুরুতর নর; হয়তো ভাল কিছু রান্না হুইরাছে, তাই এই আহবান এমন তো সর্বদাই হয়। তবে শহরের সর্ব ষে আতঙ্কের সুষ্টি হইয়াছে তাহাতে তিনিও যে উদ্বিগ্ন হইয়া ওঠেন নাই, তাই বা কে বলিবে। যদিও মুজাতাদির মতো তেজন্বী মেরে ভরে কাগুজ্ঞান হারাইর1 বসিবেন, এমন সম্ভব মনে হইল না

স্থজাতাদি! কি অদ্ভুত মেয়ে! কে|মলতার অন্তরালে চিন্তের এমন দুটতা বিস্ময়কর [ যাহারা তাহার জীবনেতিহাসের একান্ত ট্র্যাজিডি- টার কথা বিদ্বিত নয়, তাহারা তাহাকে অতি-কোমলক্বভাবা সাধ।রণ বাঙালি মেয়ে ছাড়া আর কিছুই ভাবিতে প|রিবে না; কত বড়.একটা সামাজিক বিদ্রোহের তিনি মূর্ত প্রকাশ তাহ! করন! করা তাহাদের পক্ষে দুঃসাধ্য অথচ তাহার সমস্ত জীবন জালাইরা কত বড় একট! প্রতিবাদ তিনি ব্যক্ত করিতেন, তাহা স্ুপ্রকাশের কাছে সবিদিত নয়! কী শ্রাদ্ধই হয় তার ভরিশ্বক্ূপা এই মহিলার টপর |

১২ পদরধ্বনি '

খালি বাস্-ট! বড়বাজারের মধ্য দিয়া হু করিরা ছুটি চলে। হ|ওড়| স্টেশন হইতে ছুচার জন ছাড়া আর যাত্রী ওঠে নাই; রাস্তায়ও বড বিশেষ কেহ উঠিল না। সকলের গতি নি দিকে, উল্টা ক্োতে ভাসিবার লোক বড়ই বিরল | ৮৮

নিউ পার্কস্ট্রীটের তেতলার ছে!ট ফ্র্যাটটার দরজার সুখে উপস্থিত হইর। স্ুুপ্রকাশ যখন বেল্‌ টিপিল তখন রাত আওয়। আটটার বেশি নয় ড্ররিণরুমের বড় কৌচ্টার একপ্রান্তে আলোটার ঠিক নিচে বসিম। সুজাতা চৌধুরি উল্‌ বুনিতেছিলেন। কোল হইতে আরম্ত করি! প| পর্যান্ত একট কল্কা-আ'ক1 লাল-রটের শালে ঢাকা; তার উপর নী রঙের উলের গোলাটা। চোখ বর়নে নিবদ্ধ নর, অভ্যস্ত অঙ্গণিগুলি নির্ভলভাবে আপন কার্ষ্য করিয়! যাইতেছে

সুজাতা যৌবনের প্রায় প্রত্যন্ত-দেশে পৌছিয়াছেন বল! চলে ; কশা, প্রাংল| সতেজ দেহ; দীর্ঘপঞ্মশোভিভ বড় বড চোখের দুটি বিন; ভালো করিয়! লক্ষ্য করিলে চোখের পাতার উপরে অতি ক্ষীণ ভু উপশিরার রেখা চোখে পড়িবে বুখমগ্ুল সামন্ত বিশীণ হইলেও মাধুধ্যে পরিপূর্ণ সিগ্ধ |

বারবার তিনি সন্গেহ দৃষ্টিতে পাশে চাহিয়! দেখিলেন। বই বুকে করিয়াই মিষ্ট, ঘুমাই! পড়িরাছে। একগাছ অবশ রজনীগন্ধার মতে! তার ছোট্ট মাথাটা একদিকে এলাইর। পড়িয়াছে ; সুজাতা সতককভাবে কুশানট! তার মাথার নিচে বারবার গুজিয়া দিলেন, কয়বার ওর চুলগুলি - রুপাল হইতে সরাইয়! দিলেন বড় নিঃসঙ্গ মনে হয় এই সময়টায় স্ুমিতা যদি রা প্র সময়টায় বাড়ি থ।কিত, তবে সন্ধ্যা! এমন দীর্ঘ ক্লান্তিকর মনে হইত

পদর্ধবনি

না। অথচ এখন আর একদিনও সন্ধ্যার সে বাড়ি থাকিবে শা; নানা ধরণের পুরুষ মেয়ে বন্ধু জুটিরাছে তার, বড় ভয় করে সুজাতার, নান! আশঙ্কার মনটা ভরিয়া ওঠে। ছোট বোন স্ুমিতা কিন্তু আশঙ্কাকে আমলই দেরনা। বলে, পিনেমার় নাম করতে হ'ল, ভাল ভূমিকা! পেতে হলে এদের সঙ্গে মিশতেই হবে।

সিনেম। | স্থজাতা কোনও দিনই ইহ অনুমোদন করেন নাই। কিন্তু কাহারও স্বাধীন ইচ্ছার হস্তক্ষেপ কর! তার স্বভাব নছে। সুমিত হইয়াছে, ভালোমন্দ বিচার সে নিক্ষেই করিবে তবু তিনি আপন্তি করিরাছিলেন, জীবিকার ভন্ত অর্থ উপাজ্জন প্ররোজন মনে করিলে অন্যত্র তাহা সন্ধান করিতে বলিরাছেন | স্থুমিঠা নাক ঝ|কাইয়া বলিয়াছে_মাস্টারনিগিরি! আমার ধাতে পোষাবেন! দিদিং তোমার মতে! হেড়-মিসষ্রেস হলেও না! জীবনটা আনন্দে উত্তেঞ্জনার টগবগ করে উঠবেঃ তবে তো! জীন্ন !

সন্ধা।বেলায় শিশু-পুত্র মিন্ট,£ একমাত্র সাদী; সে-ও ঘুমাইয়া পর়্িরাহছে।

এমন সম? বাহিরের দরজার বেল বাজির! উদ্ভিল। মুহর্তে স্থজাতার মুখ শ্গিদ্ধ আনন্দের আভার উচ্জল হইয়া উঠিল। বুঝিলেন, স্থপ্রকাশ আসিরাছে।

“কি দিদি, এমন জরুরি তাগিদ কেন? হাওড়া-স্টেশনে পৌছে দিতে হবে না তে? , না! ভাই, তুমি বসো? জুঙ্গাত! কহিলেন। মের ভয়ে পালাতে যাব কোন স্থখে? কদিন ধরে তুমি আসচ ন1$ তয় হলোঃ অন্থখ-বিস্ৃথ কিছু করেনি তে। | রাতে খেরে যাবে

তা তো জানৃতামই” পাশের চেরারটার বসির পড়া প্রকাশ কহিল।

১৪ পদধবনি

ন্থ-মামা 1 একট! হুইসিলের মতো কণ্ঠস্বর শুনিরা উভরই তাকাইয়1 দেখিলেন, মিষ্ট, উঠিরা বসিয়াছে।

“আর, আয় সুপ্রকাশ কহিল "তাইতো! আমি বলি, বাড়িটা এমন চুপচাপ কেন? তারপর, জাপানী এরোপ্লেন যে এসে পড়ল, তার কি করছ? |

“ম্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান্‌, মিন্ট, চোখ, কচ্লাইনতে কচ্লাইতে কহিল, “ফাইটার প্লেন আর বেলুন ব্যারাজ 1

“চমৎকার 1 হাসির সুপ্রকাশ কহিল। “কোন্‌ টাইপের ফ।ইটার প্রেন ?

গড়গড় করিয়া মিন্ট, এক গাদ1 লড়িয়ে বিমানের নাম আওডাইরা গেল এসবই স্ুপ্রকাঁশ তাহাকে শিখাহয়াছে। কিন্ধ যক্গ-বিগ্ভা মিষ্ট, স্বাভাবিক দক্ষতা বিস্ময়কর সগ্ বই পড়িয়া! যুদ্ধেব বিভিন্ন মারণ-অস্থ বা বুদ্ধরাতি সম্বন্ধে যে মব তথ্য মিণ্ট,কে শিখাইয়াছিল, তাহার অধিকাংশ কয়দিনের মধ্যে স্থগ্রকাশ ভুলিয়া গিরাছে, কিন্তু [িণ্ট, ভোলে নাই। ম্যাগনেটিক মাইন, ডেপথ চাঞ্জ বা মার্ক ফোর ট্যাঙ্ক সন্বন্ধে সে সহসা এমন সব তথ্য বলির1 দিত ফে, সু প্রকাশ বাধ্য হইর়! তাহার নাম দিয়াছে _য়েজর।

কিন্ত, মেজর” স্ুপ্রকাশ কহিল, “সবচেয়ে বড়, আত্মরক্ষার অস্ত্রটরই নাম বলতে পারলে না ।?

'আবার কি? সবিম্মরে মিণ্ট, কহিল

“কেন, লিট টেঞ্চ ! |

ধ্যেংখ। গর্তের মধ্যে কে ঢুকবে, যা নোংর] 1 মিণ্ট, অবজ্ঞার সঙ্গে কহিল।

- বড় ঘড়িটায় সাড়ে আটট! বাজিবার শব্ধ হইবার সঙ্গে সঙ্গেই হিন্দু

পদধ্বনি ১৫

স্থনী আয়াট1! আনিরা কহিল, “বাবা, খেতে চল, সাড়ে অ'ট বেজেছে।,

না নাঃ এখন আমি যেতে পারৰ না", প্রতিব।দের সুরে বিরক্তির সঙ্গে মিণ্ট, কহিল। “এখন আমি কিছুতেই ঘাব না, স্থ-মামার সঙ্গে গল্প করব, তুম আভি বাও---

সুজাতা কহিলেন, “মিন্ট 1,

বাস, আর কিছু বলিতে হইল না। একান্ত বাধ্য ছেলের মতো মিণ্ট, এক মুহুর্ভেই উঠি পড়িল। সাড়ে আটটার তাহার খাওয়ার টাইনঃ মাধ্ের কাছে নিমের কোনও ব্যতিক্রম হইবার জো! নাই, মিট, ত| জানে এখন প্রতিবাদ জানাইতে হইলে পর্দার আদ্ডালে গিরা আরাটার কাছেই জানাইতে হইবে

'্রেনিং্টা গুণ নিখুত হরেছে মিপ্ট, [হির হইন1 যাইবার পর সুগ্রকাশ সহান্তে কভিল।

“কেন, তোমার কি পছন্দ ভয় ন1? সুজাতা ভাসির। কহিলেন।

'না, তা কেন। নির্মানুধন্ধি হার ওপরই জাবানের ভিটা গড়। [লো। ০০ স্যতে বিদ্রোহী হবারও সুবিধা হয়

তা জানি ভাই ।” সুজাত! দৃষ্টিটা সস] সদূরে প্রসারিত করির!

কহিলেন, “বিদ্রোহী তোমরা হবেই। তোমাদের নব-জাগ্রত ব্যক্তিত্ কারুর ন্নেহ-প্রেমের মুখ-চেয়ে চলে না; শিজেকে প্রকাশ করবার জন্য তোমরা ব্যগ্র হয়ে ওঠোঃ আর কারুর প্রতি জক্ষেপ করো! না",

“মানুবের ব্যক্তিত্বের এই উদ্ধত বিকাশকে কি আপনি ভয় করেন, দিদি? শা? ভাই, ভয় করব কেন? নিজেও যে আমি এরই সাধন! $রেচি। আমিও তো বিদ্রোহিনী। তবু ভয় হয়--",

“কি ভয়?

৮৬ প্দর্বনি

“কোন্‌ একট। ইংরেজি উপন্টাসে পড়োছলাম একট যেরের কথ” উলের গোলাটা আবার কোলের উপরে তুলিরা লইর! স্থজ!তা কিছুট? যেন অলস-কণ্ঠে কহিলেন, শ্থিখ-সন্ধানের প্রথম প্রচেষ্টার সে বার্থ হল ; স্বামীর প্রেম-লাভ ভাগ্যে ঘটল না। আকৃড়ে ধরল সে দ্বিতীয় সম্ভাবনাকে _পুত্র হতে আনন্দ পাবেন। এখানেও তাকে হতাশ হ'তে হলো, পুত্র চায় তার প্রিয়াকে , মা তার কাছে গৌণ! তখন আর কি বাকি রইল? ধন্ম থেকেও শান্তি এল না, ধন্ধশের ভণ্ডামি হতাশ করলো 1 ধন্মন থেকে আনন্দ লাভের চেষ্টা করব বলে মনে করিনা ধন্মের উদ্ভব সর্গীপ সম্বন্ধে যে-ব্যাখ্যা তোমাদের কাছে নিত্য *%নতে পাই, তার পরেও ধন্মু সম্বন্ধে যথেষ্ট শ্রপ্জা বজার আছে বলে মনে করি নাঁ। গ্রণমটায় (তা ব্যর্থ হয়েইছি। বাকি ররেছে আমার মিণ্ট,। সে-ও কি তাঁর মাকে হতাশ করবে % একটা যেন ক্ষীণ-বেদনার আভাস তাহার কণ্ঠে ভাসিরা উঠিল।

“ভয় নেই, দিদি” স্ৃপ্রকাশ কহিল, 'অ।মরা, বাঙালি ছেলেরা, ক্রোমি- নের উপন্যাসের সেই ডাক্তার ছেলেটির মতো অত স্বার্থপর হবে উঠতে পরি না। অন্যকে শ্রস্নী করাও আমরা! কর্তব্য মনে করি | শুধু চাই, সে-কর্তব্যর দাবি যেন এত স্বাথপর না হয় যে, সে আমার ব্যক্তিত্বকে চাপ! দেবার যড়যগ্ত্র শুরু ক'রে দের। আমাদের আচরণের এখিকুস-টা। নতুন হ'তে পারে, কিন্তু তা সর্বতোভাবেই মন্দ নয় ।,

মিণ্ট,কে বিছানায় শোয়াইর! দিয়! সুজাতা আবার বসিবার ঘরে 'ফিরির1 আসিলেন ঘড়িতে সময়ের কাটা সওয়া নয়টার সের্দিকে 'একবার চোখ বুলাইর়া লইয়া কহিলেন, “হ্প্রকাশ; চলে তুমি খেয়ে নেবে; সওয়া নয়ট। বেজে গেছে তোমাকে আবার ফিরতে হবে সেই কোথায় + এই শীতের মধ্যে যেতে আবার ঠাণ্ডা! ন! লেগে যায়

পদধ্বনি ১৭

“কিছু ভর নেই, দ্িদি। মনে নেই সেই পাঞ্জাবি গণৎকারটাকে হাত দেখিয়েছিলাম একশো বছর পূর্ণ হবার পরে তবে অস্থথ- বিশ্থুথের ভয় করব! কিন্ত আরও মিনিট পনেরো! তো অপেক্ষা! করতে পারি। স্থমিতা ফিরে আহ্থক না,

“মিতা! বাইরে ওর নেমন্তন্ন আছে স্থঙ্গাতা কহিলেন তারপর যেন ঈষৎ দ্বিধা করির! কুগ্টিতম্বরে কহিলেন, ঘরাজই নেমন্তন্ন! রোজ পার্টি। এমন আমার ভর করে। যাঁদের সঙ্গে মেশে সব:ইকে আমার গুব ভালে! মনে হয় না। যর্দি কিছু বলি, হে'সই উড্ডিরে দেবে; একটু জোর করে বললে কেঁদেই দেবে একে নিয়ে আমি কি করি বল? অমিরের কাছে থকলে তবু একটু শাসনে থাকতে! আমাকে কি জক্ষেপ করে £ বলে, দিদি, স্বাধীনতার জন্যা তুমি স্বামীকে ছেড়েছ, তুমিই চাও অন্তর স্গাদীনতা খর্দা করতে কণা শোন! স্বাধীনতার অর্থ কি দণেচ্ছাচার

“অমিরবাবু, শুধু দাদা নন্‌, ব্যারিটরও বটেন।' জুপ্রকাশ রগছের সুরে কহিল, “&ঁকে বন নাঃ জটিল নুক্তি-তর্ক দিরে লিরার্টি আর লাইসেন্সের ফাটা বোনকে বুঝিরে দিতে !

“তুমি ঠাট্টা করচ, কেমন সুজাতা 'তাঁর দিকে চাহিয়া কহিলেন, কিন্ত অমিরকেই বলিনি মনে করো সে বলে, আমা দ্বারা হবে না, দিদদি। সুমি আমার কণা মোটেই শুনবে না। বৌদির সঙ্গে বগড়া করে, তোমার সঙ্গে খাকত্তে এসেচে। আমি কিছু বলতে গেলে ভাববে, বৌয়ের শেখানো! আমার যে নিজন্বত! কিছু আছে, তা স্বীকার করে না।_-কাজেই দেখচ, সব ঝকি একলা আমাকেই পোহাতে হবে কিন্তু মেরেকে শাসন করবে কে?

স্প্রকাশ ইহার কোনও জবাব দিল না উঠিয়া দাড়াইয়া কহিল,

চলুন, খেতে ষাই 1,

১৮ পদর্ধবনি

'ভূপতি চাটুষ্যে ছেলেটা কেমন, একটু খোজ নিও। ওর রকম- সকম আমার ভালো লাগে না। শুনেচি, তিন বছর বিলেত ছিল, কিছু করে? আসেনি অথচ দেখচি তো, দুহাতে টাক! ছড়াচ্ছে*""*

“বড়লোকের ছেলের এই তো প্রিভিলেজ ; কিছু ন! করবার জন্যও বিলেত যেতে পারে; কিছু না করে এলেও দুহাতে খরচ করতে পারে! চলিতে চলিতে স্থপ্রকাশ কহিল। “তবে সম্প্রতি সে নিছেও ব্যবসা করে বনু টাক! উপাঁজ্জন করচে 1

“কি ব্যবস1 ? সোদেগে স্থজাত! প্রশ্ন করিলেন !

“ওরর্‌ কনট্রা্ ব্যবসার রাজা 1,

“ওঃ, এইবার বুঝতে পেরেচি”, সুজাতা কহিলেন। “এই জন্যই সে স্থমিতাকে বলে, ভাবন| কি, সব সিনেমাওয়াল। আমার টাকে ; চান্স না-দিরে যাবে কোথার ?- ছেলেটাকে আমার একটুও ভাল লাগে না."

“কিশ, মেওনাইস্‌! চমৎকার, দিদি,। পদট1 আমার সবচেরে প্রর', বলিরা জপ্রকাশ খাগ্ভের দিকে মনোযোগ দিল !

তিন

শেষ-উ্রামের সময় হইয়া গেছে। বেশ তাড়াতাড়ি করিয়াই স্থগ্রকাশ নামিয়া আসিতেছিল। এ-আর-পি-তে কামাগ্িয়ারিং এব

পেট্রোল-র্যাশানিংংএর ফলে পর্বের মতো আর রাত একটা দেঁড়টা পর্যন্ত বাস্‌ চলে না! সাড়ে দশটায় ডিপো হইতে রাতের শেষ ট্রাম

ছাড়ে। সুতরাং এই মধ্যরাত্রে স্বাস্থ্য-অজ্জন এড়।ইতে হইলে এইটিই ভরসা

পদধবনি ১৯

“গুড নাইট্‌, বেস্ট অব নাইট্‌স্‌ঃ প্সিপ, ওয়েল, ড্রিম অব. মি": “গুড. নাইট, বল. এঞ্জেল? "টা ট1.-,

গেটের ঠিক সমুখেই একটা হুড়-খোল! মোটর দরীড়।ইয়াছিল, নুপ্রকাশের চোখে কতগুলি ফেণ্টের টুপি এবং কয়েকটি মেরের স্কন্ধের অংশ চোখে পড়িল। মোইরের এঞ্জিনের ঘাত্রারস্ত-পুর্ব আর্ত-গঙ্জন শোন। গেল। এবং পরক্ষণেই একটা সুগন্ধ ঝড়ের মতো স্নীলবেশা এক নারীমুন্তি প্রায় স্তপ্রকাশের উপর হুম্ড়ি খাইরা পড়িবার উপক্রম হইল।

“স্প্রকাশবাবু 1:

“কে? স্মিতা !,

“চিনতে পেরেছেন ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ” সুমিত গলা হইতে স্কাফ খুলিয়া লইয়া কহিল। “সে-দিন সিনেমাতে চিনেও চিনলেন না; মামার বন্ধুদের কাছে আমাকে অপদস্থ করে' ছাড়লেন:

“ওপরে যাও, দিদি ব্যস্ত হয়ে উঠেচেন। সুগ্রকাশ গম্ভীর ভাবেই কহিল

“দিদির ব্যস্ত! সবটাতেই ব্যন্ত। এত ব্যন্তের সন্মান করে চলতে হলে ঘরের আসবাব হনে উঠতে হর! তা আমি পারব না, কিছুতেই পারব না: এত তাড়াতাড়ি আপনি যাচ্ছেন কেন? কখন এসেছিলেন ? চলুন, ফিরে চলুন, কিন্ডু রাঁত হয়নি এখনও অনেক গল করবার আছে); এত কণা আমার পেটের মধ্যে কিলবিল করচে শীগৃগির চলুন, কিছুতেই আপনাকে যেতে দেব না.--, |

“আর ছু মিনিট এখানে দেরি করলে এই ব্ল্যাকআউটে চিত্তরঞ্গীন আ্যাভিনিউ পর্য্যন্ত আমাকে হেঁটে যেতে হবে

“বেশ, হবে হবে" উচ্ছ্বাসের প্রাবল্যে স্থমিতা স্থপ্রকাশের হাত ধরিয়া টানিবার উপক্রম করিল; “না যদি যেতে পারেন, থাকবেন ;

পছপ্বনি

এখানেই থাকবেন একটা রাতও কি আপনি এখানে থাকতে পারেন না? ডরয়িংকমের সোফাটায় একটু কষ্ট করলেই এঁটে যাবেন"?

“রাতের এই নিমন্ত্রণগচলেো! কি তুমি কিছুতেই এডাতে পারো না £' স্প্রকাশ উচ্দ্বাসে কর্প।ত না করিরা কহিল।

“মানে? সুমিতা সামান্য ঘাবতাইরা কহিল। “ওঃ, পুরুষ-বন্ধ গাকা বুঝি আপনারা সম্ভ করতে পারেন না? আপনাদের যখন মেয়ে" বন্ধ থাকে, তখন? আপনাদের হয় ঈর্ধা, নয় কুসক্জার। আমি কোনওটারই তোরাঞ্কা করিনে। আপনাদের পচা সমাজকে আমি বুড়ো আঙ্ল দেখিরে চলতে পারি। আমি চাই আমার মত চলতে : আমি চাই স্বাধীনতা যা আমার ইচ্ছে, আমি তাই করব; অন্যে আমার কাজে নাক-গলাতে আসবে কেন রাতে বেড়ালেই যদি খারাপ হর, তবে আপনারা রাতে বেড়ান কেন? মেরে বলেই বুঝি আমাদের দাবিক্য রাখতে চান্‌.-"ঃ

“ন।, তা চাই না" স্ুপ্রকাশ ,কহিল। “আমি এবার শুধু যেতে চাই; ক্টামটা মিস্‌ করতে চাই না।,

32 আমার সঙ্গে তর্ক করাকেও আপনি-"-মানে, আমাকে তর্কের যোগযও মনে করন না।, স্থমিতা চটিয়। কহিল। “কেন, কেন আপনর এতো দেমাক? পাগ্ডিত্যির দেমাক, ব্যক্তিত্বের দেমাঁক, চরিতের দেমাক ! এতো দেমাক! কেউ আপনার চোখেই পড়ে না: কারুর মন যর্দি ঝলমল করে” ওঠে, আপনি নক বেঁকিয়ে বলেন, সেটা অসঙ্থ দুর্ধঘলতা। আরেক জনের আবেগকে বলেন, পচা উচ্ছ্াস। এই নিন্‌ তার শাস্তি-."ঃ

মুহুর্তে আপনার নগ্ন বলয়িত বাহু ছুট দিরা স্থপ্রকাশের গ্রীবা বেইন করিয়া! সমিতা তাহার ঠোটের উপর একট! গভার সশব্দ চুম্ধণ অ'কিরা

পদধ্বনি ২১

দিল। পলকে এই কাণ্ড ঘটয়! গেল। পরক্ষণেই হি-হি করিরা একটা সুউচ্চ শঠ ভান্ত শোনা গেল; মোসাইকের সিঁড়িতে জুতার খুরের স্ততীক্ষ শব্দ তুলিয়া একটা ঘুণি বাতাসের মতো সুমিতা উপরে উঠিয়া গেল

এক সেকেগু মাত্র স্তম্ভিত রহিঘা স্ুপ্রকাশ রাস্তার বাহির হইয়! আমিল। কোমল ঠোটের সথউষ্ ম্পশের স্বাদের সঙ্গে মদের গন্ধ তাহার ঘুখের মধ্যে যেন একটা আবর্জনার মতো মনে হইল? এই নিল্লজ্জ আচরণট1 যে মাদকতারই ফল, তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু হুমিত। কোন্‌ দিকে চলিরাছে, ইহা অন্রান্ত ভাবে সে ' দ্িকটাও নিদ্দেশ করিয়া! দিল।

বারবার শ্প্রকাশ রুমাল বাহির কিয়! মুখ মুছিল; তবু সেখান চুম্বন এবং মগ্চের একট! মিলিত স্বাদ থেন অচল হইয়া মিলাইদ্জা রহিল। চমকাইর| দেখিল, আপে না-থামিরাই ট্রামটা আগাইয়া চলিরাছে। নুপ্রকাশ চল্তি ট্রামেই লাফাইয়া উঠিল।

স্মিত সুন্দরী মেয়ে। খজু সাবলীল দেহের সঙ্দে ওভেল ধরণের ঈঘং লঙ্াটে মুখটা মানাইয়াছে ভালে! গারের রৎ প্রবধবে না হইলেও কর্ণ; সুম্মার প্রলেপ ছাড়াও চোখ জোড়া দীর্ঘ কালো রোম-উৎপাটন করির়। কৃত্রিম রেখা 'টানিবার পৰে ভুরু- মুগল আরও সুন্দর ছিল। পেলব বাহু অরু লম্বা আঙললি দেহের স্থধম] বুর্ধি করে। কথা-বার্তীরঃ আচার আচরণে, চোখের কোমল দৃষ্টিতে তাহাকে মাধুধ্যমরীই মনে হইবে অধচ তার চরিত্রে এই অদ্থৃত খাদ মেশানে1; উচ্ছাসের প্রাবল্যঃ চরিত্রে দৃতার অভাব, প্রকৃতিগত অস্থিরতা এবং তাহার্দের পরিবারের রীতি অন্ুযাধ্ী বনু বিলাসী” বখাটে অকর্মণ্য ছেলের সহিত অসষ্কোচ-মিলনের সুযোগই

২৯ পদধ্বনি

তার চরিত্রে একটা ওলোট-পালোটের সৃষ্টি করির!ছে | নিজের পায়ের উপয় না-দাড়াইয়া সে হাওয়ায় উড়িতেছে; হাওয়! যেদিকে জোর, অনারাসেই সে সেদিকে আকৃষ্ট হয়।

মেয়েটির গতির এই ছুষ্টতায় স্প্রকাঁশ কখনও কখনও পীড়া অনুভব না করিয়া পারে নাই। তাহার প্রতি সুমিতার যে কিছুটা! দুর্বলতা বিগ্ধমান, একগাটাও স্থপ্রকাশের কাছে গোপন নাই নিজে সে কোনও দিনই কিন্তু তাহার প্রতি কোনও প্রকারে আকুষ্ট বোধ করে নাই স্থমিতার মতো! হান্কাণ, সেন্টিমেন্টাল, দুঢ়তাহীন মেয়ে তার পছন্দ নহে।

চিন্তরপ্ন আযাভিনিউ স্যারিসন রোডের সংযোগস্থলে নামিয়া স্বপ্রকাশ কলুটোলার মোড়ের কাছে নিজের মেস্-টার দিকে আগাইরা চলিল।

চমৎকার লাগে তার ব্র্যাক-মাউটের রাত। আলোর প্রাচুর্ষেয কলিকাতা যেন বড়ই প্রগলভ হইয়' উঠিয়াছিল। নিশ্পদীপ অন্ধকারের সংযম টানি! দিয়া তাছার সৌন্দর্যযবৃদ্ধি করিয়াছে অন্ধকারের মতো! এমন কোমল, এমন স্সিগ্ধ কিছু নাই। “শুধু% ফুটপাথের উপর আরাম করিয়া শোওরা ষাড়টার সহিত হোচোট খাইয়া স্প্রকাশ নিজে নিজেই হাসিয়া কহিল, “এই গুলিই যা একটু অস্থৃবিধা !

মেসের উপরতলার ছাদের উপরকার ঘরটি স্ুপ্রকাশের 1. খোল: ছাদের উপর কতগুলি টব জোগাড় করিয়া সে কিছু শৌখিন ফুলের গাছ পুঁতিরাছিল। এখন অবশ্ত উৎসাহ কমিয়া গেছে 7 উচিত-মত ইহাদের আর যত্ব নেওয়া হয় না। এই অবহেলা উপেক্ষা করিরাও কতগুলি গাছ শীতের ফুল ফুটাইয়াছে। | |

কে, স্প্রকাশ! এসেছিস? এলি তো এতক্ষণে! এর মধ্যে কতবার আমি রেগে উঠেচি, প্রচণ্ড রেগে উঠেচি, জানিস? একবার

পদরধবনি ২৩

নাগ দেখ! পাক্তির তিনশো! পয়ষটিটা! দিন, অথচ আজই এত দেরি! কেন, কেন রেগে উঠব না শুনি

কোলের উপরকার খাতাটা একদিকে সরাইয়া রাখিরা উড- পেশ্সিলটা শাসনের ভর্গিতে উদ্ধত করিয়া একটি রোগা ঢাঁঙ, স্প্রকাশের বরসী ছেলে প্রায় থিয়েটারি ভঙ্গিতে উঠিয়া দাড়াইল।

না-রাগবার কোনই কারণ নাই” স্প্রকাশ বিছান।টার উপর চিৎ হইয়া! সটান্‌ ইয়া পড়িয়া কহিল। “কিন্ধ দুজনের খাওয়াই পড়ে আছে কেন? তোকে নিয়ে মহা মুস্কিল হয়েছে কতদিন তোকে বলব, কেউ কারুর জন্তে অপেক্ষা নয় ; সময় হলেই খেরে নিবি শ্রীধরের কি শ্রী-ই ফুটে উঠচে দিন দিন 1 দদুভ্তোর খাওয়া! শ্রীধর প্রতিবাদের সুরে কহিল। খাওয়া: চুলোয় যাক্‌। জীবনে এত বড়ো একটা ঘটনা ঘটে গেল, আর অনায়াসেই তুই বলতে পারলি খাওয়া*-*। |

£ক্রস্-ওর়ার্ডের প্রাইজট1 পেলি নাকি? সুপ্রকাশ ঈষৎ কৌতুকের সঙ্গে প্রশ্ন করিল |

“আজে না। দি আদার ওর়ন। অবশেষে ছ্থো পেয়েছি, সত্যিই তার দেখা পেরেচি। এবার আর সন্দেহ নেই; ৰলতাম না তোকে, হ'তেই হবে, জন্মমৃত্যুর মতো অবশ্যন্থাবী। নইলে বাপগ্ডিলটা ট্রামে ফেলেই তিনি নেমে পড়বেন কেন, আর এত লোকের মধ্যে তা আমারই চোগে পড়বে কেন? মালবং গ্রিডেন্টিনেশন ! স্পগুই বললেন, ধন্যবাদ, ব় উপকার করলেন দেখত্তিস একবার যদি সেই কুতজ্ঞ দুষ্টিটা-**।

“আমি খেয়ে এসেচি' সুপ্রকাশ কোনও উৎসাহ ন| দেখাইয়া কহিল ।. “আর ঠাণ্ডা করিস না, খেয়ে নে 1 প্রকৃত প্রেম এবার নিয়ে কতবার হলো 2.”

৮৪ পদপবাঁন

'মানটা কি হলো? অসন্থষ্ট দুষ্টিতে চাহি] শ্রীধর কহিল। প্রকৃত! কোন্টা প্রকৃত ছিল এর আগে শুনি? কিন্তু এবার নির্ধাৎ; এতে আর সন্দেহমাত্র নেই। বুগদুগান্তরের প্থ-চাঁওয়া মেয়ে! এইবার প্রকৃতই গ্রকত। ঠাট্টা নয়; স্ব কিছুতেই মুখ-টিপে হাসিস না আমারও ছুরেক সময়ে রাগ হয়|?

স্বপ্রকাশ আড় চোখে তাকাইয়া! দেখিল। উজ্কস্ক, চুল: কদিণ ধরিয়। দাড়ি কামানো! হর নাই ; মুখের চেহার!টা বড় ক্লান্ত। ভাগ্য শ্রীধরকে বহুভ:বে বঞ্চিত করিয়াছে বি-এ প!শের পরই তার বাপ মার! যাঁর ; এমএ পড়ার ইচ্ছা তাগ করিতে হয়| বিধবা ম! এবং ছুটি অনু বোনের দারিত্ব মাথার আছে। তখন হইতে ভাগ্যান্ছেষণ শুরু হইরাছে। ভাগা এখনও এডাইরা চলিতেছে ভদ্র একট চাকরি জোগাড়ের জন্ঠ কি আপ্রাণ চেষ্টা স্থপ্রকাশ তাহাকে করিতে দেখিয়াছে। কিন্ত সহায়হীন, মুরুব্বিহীনের কাজ জোগাড় হত না। জংখ্যাতীত দরখাস্ত, দিনের পর দিনের ধনণ, হাজার সাটাহাটি তাহার বার্থ হইরাছে।

ক্রমে শ্রীধরের আর উংসাহ বজায় রহিল না; একটা গুরুভার অদষ্টবাদ তাহার সকল উদ্ম আচ্ছন্ন করিল; চেষ্টা করিদা কি হইবে? কলাফল যখন জানা আছে, তখন ইহাতে লাভ কি? একমাত্র অব্লপ্ধন হইল, প্রাইভেট্‌ ট্যাশানি। কিন্কু এগুলির স্তারিত্ব কিছু নাই ; আজ আছে তো কাল নাই। তবুইহা হইতেই তাহাকে পোষাবর্গের জন্য দেশে টাক] পাঠাইতে হয়। ঢু এক মাসসে সম্ভবতঃ কাজকন্মের সন্ধানই কলিকাতার বাহিরে যার; কাজ না-পাওর়ার় বাঁ পছন্দ হওয়ার আবার ফিরিয়া আসে। এখানে সে সর্বদাই স্প্রকাশের অতিগি হিসাবে থাকে ; পারিলে খাওয়ার খরচট] দেয়, না কুলাইলে দের না।

পদরধবনি . ২৫

এই রকম একটা বার্থ, অনিশ্চিত অবহ1 হইতেই তাহার এই ঢুইটা বাতিকের সষ্টি হইয়াছে কামিনী কাঞ্চন, অর্থাৎ একজন প্রেয়সী তাহাকে ভরণ-পোষণ করিবার মতো! টাক1 একদিন সম্পু+ অভাবিত ভাবেই নাকি তাহার কাছে উপস্থিত হইবে। ভাগাদেবতার নাকি ইহাই পরিহাস। ফলে, মেরে পখিলেই সে প্রেমে পড়ে এবং লটারি দেখিলেই টিকিট কেনে

“তবে ঘটনাটা একে একে শোন, সবট। খুপে বগি” শ্রীধর ছুই থন্টা- ব্যাপী এক বিবৃতির জন্ত আসন কাটরা বসিল। “তার বাড়িটাও চিনে এসেচি-*”

“তবে তো৷ কাজটা অনেকটাই এগিয়ে এসেচিস” সাতঙ্কে স্প্রকাশ কহিল “কিন্তু আগে আমি হাত-পা ধুরে আসি। ইতিমধ্যে তুই খেয়ে নে। বেশ আরাম করে শুনে শুয়ে শুনব এখন**?

'আবার হাত-পা বোর! বাঃ শাগগির মা। খেতে আমার এক সেকেও্ডও না। খাওরাটাই আজ গগ্যমর অসভ্যুত। মনে হচ্ছে; স্ুুল কিছু সূ্গ করাই ক্টকর হবে ?,

বিছানার আরাম করির/ ইরা সুপ্রকাশকে সেই রোমাঞ্চকর আ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী শুনিতে হইল ব্রতকথ। শুনিতে হইলে হাতে দুর্া লইর] শুনিতে হর; তাহার পরিবর্তে স্প্রকাশ টবের গাছ হইতে ডাঁটশুদ্ধ একটা ফুল সংগ্রহ করিয়া লইরা আিরাছিল। কিন্ধ এই নিষ্ঠাও তার কাজে লাগিল না। বিজলি আলোটা লাগ নীল সবুজ নানা রকম এলোমেলো রঙে মিশাইয়া যাইতে লাগিল; স্থির আলোটা গলিত বর্ধের একটা অল্পষ্ট চক্রের মতা! হইর1 উঠিয়া বন্বন্‌, করিয়া! ঘুরিতে লাগিল; একটা কোমল ধূসর ছার। মগজের ভিতর কেবলই জড়াইয়! যাইতে ল।গিল

২৬ | পদধ্বনি

“কি হচ্চে, ব্যাপারটা কি হচ্চে শুনি? সহসা স্থপ্রকাশ একটা ঙ্গীণকণ্ঠ শ্ুনিল। “দেড় দেঁড়টি ঘণ্টা ধরে আমি অনবরত ৰকে যাচ্ছি একটু সহানুভূতি পাবার জন্য, আর ইদিকে নাকের ডাকটা বেশ জোর করে? উঠেচে। দেখও স্প্রকাশ। কখনও কখনও এমন কি আমারও রাগ হতে পারে। এর অর্থটা কি শুনি?

চম্কাইয়৷ চোখ মেলিয়া স্ুপ্রকাঁশ কহিল, “বাকিটা! কাল শুনব ভাই। বড্ড ঘুম পেয়েচে-**

যথেষ্ট হয়েচে। কাল শুনে আর কাজ নেই।” শ্রীধর কহিল, “খুব শিক্ষা লাভ করেচি। সহানুভূতি না গাকলে যা প্ররুত, তা-ও প্রকৃত মনে হয় না। ষা একটা জীবন-মৃত্যুর ব্যাপার তার চেয়ে এক রাত্রের ঘুমই বড় হলো! দে দেখি, হাতটা বাড়িয়ে অক্সফোর্ডটা ছুড়ে দে...

ঘুমের প্রাবল্যে এক সেকেপুকাল স্থপ্রকাশের কাছে অল্সফোড ছঁড়িরা দেওয়া অসাধ্য কন্ম মনে হইল। পরক্ষণে সে হাত-বাড়াইয়া টেবিল হইতে অক্সফোড ডিক্সনারিটা সংগ্রহ করির়। শ্রীধরের দিকে আগাইয়া দিল। কহিল, “এত রাত্তিরে আবার ডি্সনারি কেন, শুয়ে পড়।

“শুয়ে পড়!" চাটয় শ্রীধর কহিল, “শুয়ে পড়লেই যেন সব সমস্তার সমধান হয়ে যাবে! বাসা-পত্তন করতে হলে অর্থের প্রয়োজন, সেটা খেয়াল আছে? পাতবি কি তোর দেবীর আসন, শৃশ্ঠ ধুলায় পথের ধারে ?--আজ সারা রাত জেগেই আমাকে ক্রস্ওয়ার্ডের সল্যুশনটা বের করতে হবে। বারে! হাজার টাকায় জীবনে একটা স্টার্ট পাওয়া যার। শুনচিস্ং নিচতলার সেই কম্যুনিস্ট ছোক্রা দু-ছুবার তোর খোজে এসে-”

«কে, বিমল ?' সুপ্রকাশ নিদ্রাজড়িতকষ্ঠে কহিল

পছপবাণ ২৭

“আর সেই কেরাধীবাবু--.'

“বীরেশ্বরবাবু! এবার তর্কটা কি নিয়ে”

জানিনে, জানতে চাইও নে" শ্রীধর উদার সঙ্গে কহিল। “কোনও অবান্তর কথাঁর কচকচির মধ্য আমি নেই। অনেক গভীরতর জিনিষের

মধো আমি পড়েছি, ওসব আমার কিছুতেই সহা হবেন! 1--একটা মীমাংসার জন্য কাল ভোরবেলায়ই আবার আসবে বলে গেছে আমিও শাসিরে দিয়েচি, যতবার ইচ্ছে আম্ুন, যে-বিষয়ে এবৎ যতক্ষণ ইচ্ছে তর্ক করুন, কিন্ধ খবরদার, আটটার আগে নয়। তার আগে ট্যাশানিতে বের হতে পারব না.**বাঃ বেশ! ফৌস্ফৌস্‌ করে নিশ্বাস ছা! হচ্চে! ঘুমোও, যত ইচ্ছে ঘুমোও। আমার মাজ ঘুম আসবার মতো মনের অবস্থা নর--"

ছাত্র

খবরের কাগজের অফিসের মতো! এমন একটা ভালো ক্লাব পাওরা দুর্ঘট ! খবরের সাথে গুজব, কাজের সাথে গল্প এব, নিষ্ঠার সঙ্গে পরিহাস এখানে সমান তালে চলে এইজন্যই বোধ হগ্ন দীর্ঘ সময়- ব্যাগী কাঁজ এত স্বচ্ছন্দে করা সম্ভবপর হর! মামুলি অফিসের ' কডাকড়ি এখানে নাই, অথচ নিক়মান্থবন্তিতার কিছু অভাব হর না! কিরূপ নিয়মিত ভাবে পরের দিনের কাগজ হাতে পাওয়া যায় তাহা স্থবিদিত, অথচ সংবাদপর অফিসের বাহিরের ্ূপ দেখিলে ইহা প্রায় অসম্ভব মনে হইবে |

সম্পাদক মোহিতবাবুর ঘরে বসি সুপ্রকাশ এতক্ষণ এমন অব গোপনীয় চাঞ্চল্যকর খবর শুনিয়াছে যাহা কোনও নিউজ-এজেন্লিই

১৮ পদধ্বনি

সরবর!হ করিতে পারে নাই, এবং মিত্রপক্ষ বা শক্রপক্ষের মাত্র ছু'চাঁর জন প্রধান কন্মচাঁরি ছাড়! 'আর কারুর ানিবার কগাও নহে। কিন্ত; তাহা হইলে কি হর, দেখা গেল, সে সব মুল্যবান গুপ্ত খবর এখানকার অন্তত অন্ধ ডজন লোকের কাছে আর গোপন ন!ই। কিন্ত মুস্কিল এই যে, ইহাঁতে গর্বিত বোধ করিবার উপার নাই; অফিসের বাহিরে গিয়া একটু .খোজ নিলেই জানা যার, রাস্তার প্রতি দশ ছন পিকের মধ্যে অন্তত একজন তাহা আগে হইতেই জানে অবিশ্বাসীরা ইহার নাম দিরাছে, গুজব 1

অবশেষে মোহিতবাবু কহিলেন, 'যণেষ্ট গুজব চটকানে! হরেছে, এবার ধ।ও, সণাই কাজে যাও, ছোক্রার| ওহে, স্ুপ্রকাশ, কলকাতার এই ইভাক্যুয়েশন সম্ধন্ধে আজ একটা সেকেগু-লীডার লেখ দিকি। সম্বন্ধে রিপোর্ট মেলাই বের হচ্ছে; আরও ছু'একটা সাম্পাদকীর ন] লিখলে আর ভালে। দেখার না."

'মাটি করেছে 1 স্ুপ্রকাশ সাতঞ্ষে কহিল, এনিয়ে সম্পাদকীয় লেখা! আমি এর উপঘুক্ত মধ্য? দিতে পারব .কি? বরঞ্চ অবিনাশবাু যদি লেখেন:*"

সহকারী-সম্পাদক অধিনাশবাবু প্রতিবাদ করিরা কহিলেন, 'ন| না, ওসব আমার আসে ণা। জলন্ত যেকোনও সমস্তা জালাময়ী ভাষাতে লিখতে দাও, জুলুমবাজ পুলিশের কম্মচারির মাথা উড়িয়ে দিতে দাও, ব্যুরোক্রেসির অস্ত্যন্টি'-; ্‌

'এট! তুমিই লেখ, স্ুপ্রকাশ” অবিনাশবাবুর ক্রমবৰমান উচ্ছ্বাসকে আর বাড়িতে দিবার স্থযোগ না দ্িরা মোহিতবাবু কহিলেন। “এ তোমার উপযুক্ত নীট সারাক্ষণ তো ইভাকুযুরি দেখবার জন্য রাস্তার রাস্তায় ঘুরে বেড়াও-.

'কিন্তু ভীত জনতার থেকে” স্প্রকাশ যথাসাধ্য গস্ভতীর ভাবেই

পদ্ধবনি "২৯

কহিল, “ইন্পিরিয়ালিস্ম্‌, মুসলীম্‌ লীগ এবং পুরণ-স্বাধীণতাতে পৌছতে সুবিধা করতে পারব কি?

“তা এসব কিছু কিছু না ঢোকালে চলবে কেন? মোহিতবাবু এদের পাঞ্জাবির প্রান্ত দিরা চশমার কাচ মুছিয়া কহিলেন “আমাদের কাগজের পলিসি অন্তসরণ করে' তো লিখতে হব ! একটা মর্যাল্‌ তো চাই

“একটু যি রগড় করি আপন্তি আছে কি?'

“ওরে সর্দনাশ 1 মোহিতবাবু সাতঙ্কে কহিলেন, “মান্মের এমন বিপদেও রগড় করে! আমাদের পপুলার পেপার; সাধারণের এমন দুদ্দিনে সহান্থভতি দেখাতে হবে। ক্ষেপে! ঠাট্রা-পরিহাস চলবে না। তোমার এক বাতিক। ভালে! হোক, মন্দ হোক, মান্তষে যা করে তাই মেনে নিতে হবে। ঠাট্টা করতে হয় কর রেল-কোম্পানীকে, বিটিশ গনর্ণমেন্টাকে,। অনা দিল্লীর নন্দছুললদের | তবে সাবধান, ডিফেন্স অব. ইপ্ডিগ! রুলস্‌ বাচিরে-.)

মোটাসোটা মাম্ট, পরিপূর্ণ মুখ, গাল ছুটো একটু কোলা ফোলাই বল। চলে বেশ সুপুষ্ট এক জোড়া গেৌফ জগতের সব কিছুর প্রতি মবহেলা জ্ঞাপন করিতেছে মোহিতব।বু পচিশ বংসর ধরিয়! সাংবাদিকত। করিতেছেন ; পনেরো! বৎসর ধরি! তিনি দেশের অন্ততম শ্রেভ দৈনিক কাগজের গুধ।ন সম্পাদক কাগজের স্বার্থ কিরূপে বুঙ্ধি পার, জন- প্রিয়তা অজ্জনের পক্ষে অপরিহাধ্য নীতি কি, এসবের পক্ষে তাহ।র বচারকে প্রায় অভ্রান্ত বল! চলে।

“একটু হান্ধা! করে, লিখতে পারি তো% সেকেগু-লীডার বলেছিলেন ন1?

“তা লেখ, কিন্তু বেশি নয় সেকেগু-লীডারই হোক, আর যাই হোক, আমাদের দেশে বেশি হাক্কা1! লেখা চলে না আমরা, তোমাকে

৩০ পদধবনি

বলতে কি, একটু গিয়ে জালামরী ভাষা, আর এই অবিনাশ যাঁকে বলে জলন্ত" সমস্তাঃ তারই বেশি পক্ষপাতী

নিজের পার্টিশান-ঘেরা খুপরিটাতে আসির| স্রপ্রকাশ সম্পাকীর লিখিতে বসিল। একটা জ্যান্ত ব্যাপারকে তন্বে পরিণত করা একেই কঠিন কাজ; তার উপর প্রাণ-ভয়ে পলারনের মধ্যে যদি আমাজ্যবাদ, বুরোক্রেসি, কংগ্রেস ওয়াকিং কমিট প্রভৃতি ট,কাইতে হর তবে তো৷ ব্যাপারট1 রীতিমত জটিল হইয়া ওঠে অথচ সম্পাদকীরতে কংক্রিটের

স্থান নাই; প্যাসেঞ্জার স্থপারিন্টেণ্ডেপ্ট দেবেন চাটুষ্যেকে ইচ্ছা সত্বেও ঢুকাইতে পারা যাইবে না জ্যাব্ট্রাক্ট চিন্তা না থাকিলে সম্পাদকীরের

গৌরব থাকে না। অথচ বারবার ইভাকুযুরেশনের নানাদিকের নান| চিত্র মনের মধ্যে উকিঝুরকি মারিয়া বেড়াইতেছে। নসাংবাদিক ন! হয়ে আমার বে।ধহয় ওপন্যাসিক হওয়াই উচিত ছিল। মনে মনে স্ুপ্রকাশ বলিল, এবং ড্রয়ার খুলির়। শাদ। ফুলঙ্ক্যাপ কাগজ বাহির করিল

“এর একটা প্রতিকার আপনাকে করতেই হবে, স্তার। খবরের কাগজের অফিসে কাজ করব; ছুনিরার সবার অভাব-অভিযোগ ছেপে মরব, আর নিজেদের ওপর যর্দি এমনট] জুলুম হর তবে কি চুপ করে যেতে হবে? বলুন, আপনি বলুন শ্তার, সকলের নালিশ জানাবার জায়গ! পাওয়া যাবে, আর আমাদের নালিশ জানারার জময়ই জারগার অভাব !;

প্রুফ-রীডার নকড়িবাবুর সারাটা মুখ একটা স্যাষ্য প্রতিবাদের উত্তেজনায় চঞ্চল হইয়! উঠিয়াছে চোখের নিকেল-ফ্রেমের চশমা নাকের ডগায় আসিয়া আটকাইরা আছে ; চুল চিরুণীর সংস্পর্শে বঞ্চিত; গালে খোচা-খোচা দাঁড়ি কদম-ফুলের কেশরের মতো কাটা দিয়া

পদধবনি ৩১

আছে। গায়ে শাদা! ফতুরা, ধুতির কৌচাটা মুখ দিকে দোভাজ করা পায়ে তালতলার চটিটা বিবণ বহুতালিসংযুক্ত

কাউন্টেন পেন্টা টেবিলে নামাইয়া রাখিষ্বা স্থপ্রকাশ কহিল, 'ব্যাপার কি, নকড়িবাবু? আপনার আবার নালিশ কি? কোপার নালিশ জানাতে চান ? জারগ! দিয়ে কি হবে ?

“সম্পাদককে একটা চিঠি লিখতে চেয়েছি, স্ার, একটা চিঠি লিখতে চেরেছি।' নকন্ডি জানাইলেন। 'শ্রেফ এই আর কিছু নর অণ্চ সব-এডিটর করালীবাবু বেমালুম বলে দিলেন, এই হপ্তাট। আর হবে না, মোশার, 'এক গাদ! চিঠি জমে আছে, জায়গা করন্তে পারব না"-"ঃ

হিরেচে কি? এত নিকটবন্তী সম্পাদককে চিঠি লিগিবার প্রয়েজনীরতা জদরঙ্গম করিতে ন। পারির। স্তপ্রকাশ প্রশ্ন করিল।

ন্তার, সেইটেই তো! আপনাকে বলতে এসেচি” নকড়ি কহিলেন “এই এত বড়ে। খবরের কাগজের অফিসে গরিব কম্মচারিদের সুথ-ছুঃখের কথা আর কে শোনে বলুন? তার! দেশ-বিদেশের ছুঃখু-ছুর্দ শা ঘোচাবার জন্তই মেতে আছেন। আমরা মরলুম কি বাচলুম, আমাদের ওপর কে জুুম-জবরদস্তি করলে, কে তার খোজ নিচ্ছে-.-অপচ বাইরের লোকের ওপর এমন জুলুমটা! হলে. আমাদের কাগজেই একটা হৈ-চৈ পড়ে যেত ।'

“আপনি খুব উ.ত্তজিত হরেছেন।” স্থপ্রক!শ ঈঘৎ অধৈধ্য হইরা, কহিল। “নিশ্চয়ই আপনার অভিযোগের কারণ আছে। কিন্তু সেটা কি, তা এখনও বলেন নি

ম্তার, ছেলেটাকে নিরে গিয়েছিলুমু মেডিক্যাল কলেজে শাজিক্যাল ওয়ার্ডে ভন্তি করাতে। আ্যাপিগ্ডিসাইটিশের ব্যথায় নীলবর্ণ হয়ে উঠেচে; থেকে থেকে বিছনা থেকে উঠে দেওয়ালে গিয়ে মাথ!

৩২ পদরবধন

ঠুকচে। পাড়ার ডাক্তার বললেন, নিরে যাঁও এক্ষুণি " মেডিক্যাল কলেজে নিরে ভর্তি করে দাও; এক্ষণি অস্ত্র নাকরালে বাচান দায় হবে-*"তা নিলে কি? নিলেনা; বেমালুম বলে দিলে, এ, আর পি কেসের জন্ত বেশির ভাগ সাঁট্‌ রিজার্ভ ; জারগা নেই-**

এইবার স্থপ্রকাশ অবহিত হুইরা উঠিল। নকড়িবাবু অভিযোগ করিতে হইলে একটু বেশি বাক্যব্যর করেন; এজন্য সমর সমর বিরক্ত বোধ ন1 করির1 উপায় থাকে না। কিন্ক অনাবশ্তক অভিযোগ করা তাহার স্বভাব নহে, ইহাও স্ুপ্রকাশ বেশ জ্ানে। ছাপাখানার নীরব কন্মীর দল কিরূপ নিষ্ঠার সহিত অত্যন্ত দরকারী কাজ একান্ত অবহেলার মধ্যে যখোচিত ভবে সম্পনন করির। যার, তাহা সুগ্রকাশের অবিদিত নহে।

চেরারে সোজা হইর1 বসিরা বিস্মিত উদ্বিগ্ন দৃষ্টিটা নকডিবাবুর অভিযোগ বেদনায় বিকৃত অস্থন্দর মুখটির উপর বাখিযা স্ুপ্রকাশ কহিল, “ভন্তি করলে না

'না স্তার। তবে আর বলচি কি? নকড়িবাবু এইবার সহান্ত- ভূতির স্থুর টের পাইরা অনেকটা! সহজ হইর! কহিলেন “আধ-মরা ছেলেটাকে আশ! দিরে নিয়ে গিছলুম ; বাড়িতে ফিরিয়ে নিননে গেলুম***। “বললেন ন1 কেন, ব্যথাতে ছেলেঢা মরে যাবার উপক্রম হয়েছে ?

'তা আর ৰলিনি, স্তার! বলেছি, আপনার পা ছুটি ধরি ভাক্তার- বাবু, এরে বাচান ব্যথায় আত্মহত্যে করতে চাইচে। আপনার কেন! গোলাম হয়ে থাকব হলো না। মুখ খিচিয়ে বললেন; জায়গা নেই তো! একে কি মাথার ওপরে রাখব, আহাম্মক কোথাকার !--তবেই বুঝুন , কেন উত্তেজিত হয়েচি *